জেরুজালেম ইস্যুতে বিশ্ব মুসলিমকে এক হওয়ার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

০৭ ডিসেম্বর,২০১৭

জেরুজালেম ইস্যুতে বিশ্ব মুসলিমকে এক হওয়ার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: জেরুজালেম ইস্যুতে বিশ্ব মুসলিমকে এক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, অনুরোধ করব সকল মুসলিম দেশকে এক হতে, মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হতে। প্যালেস্টাইন যেন ন্যায় অধিকার পায়, সে জন্য যেন এক হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসন ভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন। কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বক্তব্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সুয়োমোটো ঘোষণা দিয়েছেন, তা কারও কাছে, মুসলিম বিশ্বের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা জেরুজালেম প্রশ্নে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত (রেজুলেশন) আছে। জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। জাতিসংঘের সিদ্ধান্তকে এভাবে অগ্রাহ্য করা কেউই মনে নেবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি, প্যালেস্টাইনের একটা অধিকার রয়েছে। তাদের একটা নিজস্ব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে হবে। নিজস্ব রাষ্ট্র হতে হবে। ১৯৬৭ সালে প্যালেস্টাইনের যে সীমানাটা ছিল, ইস্ট জেরুজালেম যেটা তাদেরই জায়গা, সেটাই থাকা উচিত। এর বিরুদ্ধে একতরফাভাবে কিছু করা মানে সারা বিশ্বে শান্তি নষ্ট করা।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপ্রক্রিয়া শুরু করে। এ জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারও পেয়েছিল। এখন সেই শান্তিপ্রক্রিয়াকে অশান্তির পথে ঠেলে দেওয়া হলো। এটা কাম্য নয়।

এত দুর্বলতা কিসের, বিনা পয়সায় শপিং করার কার্ড পেয়েছেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের সদস্যদের ‘সৌদি আরবে সম্পদ থাকার খবর’ বাংলাদেশের গণমাধ্যম এড়িয়ে যাওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এত দুর্বলতা কিসের জন্য? বিনা পয়সায় শপিং করার কার্ড পেয়েছেন?

বৃহস্পতিবার গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

কম্বোডিয়া সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলনে সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার,দ্য ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান,বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাইমুল আহসান খান, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ৭১ টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মোজাম্মেল হক বাবু, এটিএন বাংলার বার্তা প্রধান জ ই মামুনসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে দুর্নীতি মামলায় বিচারের মুখে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরবে সম্পদ থাকার তথ্য বাংলাদেশের গুটিকয়েক সংবাদ মাধ্যমে সম্প্রতি আসে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত বক্তব্যের পরপরই বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার সম্পদের তথ্যের বিষয়ে জানতে চান।

প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করছেন বিএফইউজে সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল
এর জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী অনেকটা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, সৌদি আরবে যে বিশাল শপিং মল পাওয়া গেল; এটা তো আমরা বলিনি। এই খবর দেওয়ার কোনো আগ্রহ দেখলাম না। আমরা তন্ন তন্ন করে দেখেছি। শুধু দুটি চ্যানেল ও দুটি পত্রিকা শুধু নিউজটা করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সম্পাদিক দ্য ডেইলি অবজারভারে এই খবরটি প্রকাশিত হয়েছিল গত ১ ডিসেম্বর। প্রতিবেদনে সংবাদের উৎস বলা হয়েছিল, আরবভিত্তিক টিভি চ্যানেলগুলোকে উদ্ধৃত করে ‘গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক (জিআইএন)’ এবং ‘কানাডার টিভি চ্যানেল দ্য ন্যাশনাল’ এই খবর দিয়েছে।

ইন্টারনেট ঘেঁটে ‘দ্য নাশনাল’ নামে কানাডার কোনো টিভি চ্যানেলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কানাডার রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে দ্য নাশনাল নামে একটি নিউজ প্রোগ্রামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তবে সেখানে সার্চ দিয়ে খালেদা সংক্রান্ত কোনো খবর পাওয়া যায়নি। আর গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক নামে কোনো গণমাধ্যম ইন্টারনেকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

‘বাংলা ইনসাইডার’ নামে একটি ইন্টারনেট সংবাদপত্রেও ‘খালেদার সম্পদের’ খবরটি ছাপা হয়েছে। সেখানে কোনো সূত্রের উদ্ধৃতি নেই। এই সংবাদপত্রটি ইতোপূর্বে ভুয়া খবর প্রকাশের জন্য আলোচনায় আসে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ওই খবরটি না ছাপানোর কারণ জানতে চেয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, এত দুর্বলতা কিসের জন্য? বিনা পয়সায় শপিং করার কার্ড পেয়েছেন?

তিনি বলেন, কেন? আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি বলে? আর, তারা (খালেদা জিয়া) যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই অনেক বেসরকারি বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি দেওয়ার কথাও মনে করিয়ে দেন শেখ হাসিনা।

সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে না লিখলে নাকি পত্রিকা চলেই না। আমি তো পত্রিকা পড়ে দেশ চালাই না। দেশকে ভালোবেসে দেশ চালাই। আমি বাবার কাছ থেকে শিখেছি।

একাত্তর টিভির প্রধান নির্বাহী মোজাম্মেল বাবু প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে গিয়ে তার চ্যানেলের অনেক সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করলে প্রধানমন্ত্রী হাসতে হাসতে বলেন, অনেকেই অনেকক্ষেত্রে সাহস দেখান। অনেক সময়ে আবার তারেক রহমানের ধমক খেয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

জনগণ কেন খেসারত দেবে: কর্নেল অলি

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ‘বড় বড় প্রজেক্ট হচ্ছে। প্রত্যেক দিন উদ্বোধন করা হচ্ছে। জনগণ কেন এটার খেসারত দেবে। বি . . . বিস্তারিত

বিএনপির ষড়যন্ত্রের ফাঁদে মানুষ পা দেবে না: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনব্রাহ্মণবাড়িয়া: বিএনপির ষড়যন্ত্রের ফাঁদে বাংলার মানুষ পা দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com