নাকে খত দিয়ে নয়, সরকারকেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বাধ্য করা হবে: ফখরুল

০৭ ডিসেম্বর,২০১৭

নাকে খত দিয়ে নয়, সরকারকেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বাধ্য করা হবে: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: বিএনপি নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাবে না বরং সরকারকেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য কারেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে দাম্ভিকতা আখ্যায়িত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই আচরণ দিয়ে ভবিষ্যতে দেশ শাসন করা যাবে না।

তিনি বলেন, নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া একটি রাজনৈতিক দলের অধিকার, এটি কারো পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিতে নাকে খত দিয়ে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না।

বরঞ্চ বর্তমানে যারা সরকারে আছেন, তাদের বাধ্য হতে হবে সব রাজনৈতিক দলগুলো যেন নির্বাচনে আসে তার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে। এটা শুধু বিএনপির কথা নয়, এটা সমগ্র দেশের জনগণের কথা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি এখন নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের দাবি করছে। এ বিষয়ে সমঝোতার জন্য আলোচনায় বসতে দলটির নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এলেও তাতে সাড়া দিচ্ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

দলটির নেতারা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে।

এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক কম্বোডিয়া সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে এলে এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।

জবাবে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নাকে খত দিয়ে আগামী নির্বাচনে আসবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছ থেকে এই প্রশ্ন এসেছে যে, এটা (নির্বাচন) সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। সেটা নিরপেক্ষ একটা সরকারের অধীনে নির্বাচন করা- এই প্রশ্নটা জাতির সামনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

এখন ঔদ্ধত্য ও দাম্ভিকতা- এটা দিয়ে তো ভবিষ্যতে দেশ শাসন চলবে না। দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যাবে না।

বিএনপি সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে ‘ক্ষমতা হস্তান্তর চাইছে’ জানিয়ে তিনি বলেন, যদি প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বশীল নেত্রী হন, তাহলে অবশ্যই তাকে এদিকেই চিন্তা করতে হবে এবং জনগণের মনের আশা-আকাঙ্ক্ষাটা বুঝতে হবে। সেভাবেই তাকে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনারই দেশে নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে ক্ষমা চাইতে হবে-প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে তিনি যেটা বলেছেন এটা জনগণের কাছে হাস্যকর মনে হবে। গত ৮-৯ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১৪ সালে বিনা নির্বাচনে সরকার গঠন করার পরে জনগণের উপরে তারা যে অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে, করে চলেছে এবং সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে ক্ষমা কাকে চাইতে হবে সেটা জনগণই বিচার করবে।

সেজন্য দেশনেত্রী আগেই বলে দিয়েছেন যে, তার উপরে, তার দলের উপরে এবং দেশের মানুষের উপরে যে নির্যাতন চলছে, তিনি তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দিতে গিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া বলেন, সরকার জিয়া পরিবারের সঙ্গে বৈরী আচরণ করলেও তিনি শেখ হাসিনাকে ‘ক্ষমা করে দিয়েছেন’, প্রতিহিংসামূলক কিছু করবেন না।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।

এত দুর্বলতা কিসের, বিনা পয়সায় শপিং করার কার্ড পেয়েছেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের সদস্যদের ‘সৌদি আরবে সম্পদ থাকার খবর’ বাংলাদেশের গণমাধ্যম এড়িয়ে যাওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এত দুর্বলতা কিসের জন্য? বিনা পয়সায় শপিং করার কার্ড পেয়েছেন?

বৃহস্পতিবার গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

কম্বোডিয়া সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলনে সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার,দ্য ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান,বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাইমুল আহসান খান, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ৭১ টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মোজাম্মেল হক বাবু, এটিএন বাংলার বার্তা প্রধান জ ই মামুনসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে দুর্নীতি মামলায় বিচারের মুখে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরবে সম্পদ থাকার তথ্য বাংলাদেশের গুটিকয়েক সংবাদ মাধ্যমে সম্প্রতি আসে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত বক্তব্যের পরপরই বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার সম্পদের তথ্যের বিষয়ে জানতে চান।

প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করছেন বিএফইউজে সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল
এর জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী অনেকটা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, সৌদি আরবে যে বিশাল শপিং মল পাওয়া গেল; এটা তো আমরা বলিনি। এই খবর দেওয়ার কোনো আগ্রহ দেখলাম না। আমরা তন্ন তন্ন করে দেখেছি। শুধু দুটি চ্যানেল ও দুটি পত্রিকা শুধু নিউজটা করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সম্পাদিক দ্য ডেইলি অবজারভারে এই খবরটি প্রকাশিত হয়েছিল গত ১ ডিসেম্বর। প্রতিবেদনে সংবাদের উৎস বলা হয়েছিল, আরবভিত্তিক টিভি চ্যানেলগুলোকে উদ্ধৃত করে ‘গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক (জিআইএন)’ এবং ‘কানাডার টিভি চ্যানেল দ্য ন্যাশনাল’ এই খবর দিয়েছে।

ইন্টারনেট ঘেঁটে ‘দ্য নাশনাল’ নামে কানাডার কোনো টিভি চ্যানেলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কানাডার রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে দ্য নাশনাল নামে একটি নিউজ প্রোগ্রামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তবে সেখানে সার্চ দিয়ে খালেদা সংক্রান্ত কোনো খবর পাওয়া যায়নি। আর গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক নামে কোনো গণমাধ্যম ইন্টারনেকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

‘বাংলা ইনসাইডার’ নামে একটি ইন্টারনেট সংবাদপত্রেও ‘খালেদার সম্পদের’ খবরটি ছাপা হয়েছে। সেখানে কোনো সূত্রের উদ্ধৃতি নেই। এই সংবাদপত্রটি ইতোপূর্বে ভুয়া খবর প্রকাশের জন্য আলোচনায় আসে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ওই খবরটি না ছাপানোর কারণ জানতে চেয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, এত দুর্বলতা কিসের জন্য? বিনা পয়সায় শপিং করার কার্ড পেয়েছেন?

তিনি বলেন, কেন? আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি বলে? আর, তারা (খালেদা জিয়া) যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই অনেক বেসরকারি বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি দেওয়ার কথাও মনে করিয়ে দেন শেখ হাসিনা।

সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে না লিখলে নাকি পত্রিকা চলেই না। আমি তো পত্রিকা পড়ে দেশ চালাই না। দেশকে ভালোবেসে দেশ চালাই। আমি বাবার কাছ থেকে শিখেছি।

একাত্তর টিভির প্রধান নির্বাহী মোজাম্মেল বাবু প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে গিয়ে তার চ্যানেলের অনেক সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করলে প্রধানমন্ত্রী হাসতে হাসতে বলেন, অনেকেই অনেকক্ষেত্রে সাহস দেখান। অনেক সময়ে আবার তারেক রহমানের ধমক খেয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

জনগণ কেন খেসারত দেবে: কর্নেল অলি

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ‘বড় বড় প্রজেক্ট হচ্ছে। প্রত্যেক দিন উদ্বোধন করা হচ্ছে। জনগণ কেন এটার খেসারত দেবে। বি . . . বিস্তারিত

বিএনপির ষড়যন্ত্রের ফাঁদে মানুষ পা দেবে না: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএনব্রাহ্মণবাড়িয়া: বিএনপির ষড়যন্ত্রের ফাঁদে বাংলার মানুষ পা দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com