আদালত কি তাদের মতো ঘোড়ার ঘাস খায় নাকি, প্রশ্ন ওবায়দুল কাদেরের

১৪ নভেম্বর,২০১৭

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমানকে প্রতিষ্ঠিত করার বিএনপির চেষ্টায় জিয়া নিজেও কবরে ছটফট করছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বিএনপি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যতই ছোট করতে চেয়েছে তিনি ততই বড় হয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ৭ মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি উপলক্ষে জাতীয় শ্রমিক লীগ আয়োজিত আনন্দ র্যাগলির অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে কাদের বলেন, জিয়া নিজে বিচিত্রায় বলে গেছেন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে আমরা স্বাধীনতার সবুজ সংকেত পেয়েছি। জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টায় তিনি নিজেও কবরে ছটফট করছেন।

৭ মার্চের স্বীকৃতির বিষয়ে কাদের বলেন, কেউ কেউ এই ভাষণ মেনে না নিলেও ধরত্রী মেনে নিয়েছে। আপনারা ঘরের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলতে চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সংজ্ঞা বঙ্গবন্ধু সম্পূর্ণ করেছিলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) স্বাধীনতা এনেছেন। আর দেশের মুক্তি এনেছেন তার কন্যা। এটা মনে হয় স্রষ্টা লিখে রেখেছিলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া সবিনয়ে বলি: লুটপাট, খুন, আগুন, সন্ত্রাসে আপনাদের পাপে পাপে, অনেক পাপ জমে গেছে। এটা ধৌত করবে এমন শক্তি কারো নাই।’

তিনি বলেন, ‘পাপীর পাপ ধৌত করতে করতে রামের গঙ্গা ময়লা হয়ে গেছে। আমাদের বুড়িগঙ্গাও ময়লা হয়ে গেছে। বিএনপির পাপ যদি ধৌত করতে যায়, তাহলে বুড়িগঙ্গা আরো ময়লা হয়ে যাবে। আপনি আচরি ধর্ম পরকে শেখান। আগে নিজেরা শুদ্ধ হোন, তারপর অন্যকে বলুন শুদ্ধ হওয়ার জন্য। আপনাদের চেয়ে অনেক ভালো আমরা। আমাদের ভুলত্রুটি আছে, আমরা শতভাগ শুদ্ধ এ কথা বলব না। কিন্তু আপনারা তো শতভাগের কাছাকাছি অশুদ্ধ।’

সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ছুটি থেকে ফিরে ওই ১৫৪ জনের বৈধতার প্রশ্নে করা একটি রিটের শুনানি নিয়ে তাদের অবৈধ ঘোষণা করতে পারেন বলে সম্ভাবনা থাকায় তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মোশাররফ সাহেব কি বলেছেন ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে? ১৫৪ জন নয়, ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। এটাও জানেন না তিনি। তিনি যে এ কথাটা কতবার বলেছেন তিনি নিজেও জানেন না। আসেন চ্যালেঞ্জ করুন। চ্যালেঞ্জ করুন এখানে আইনের কী সমস্যা? গণতন্ত্রের কী সমস্যা, নির্বাচনের কী সমস্যা? আপনি নির্বাচনে এলেন না, অপ্রতিদ্বন্দ্বী করলেন অনেককেই। এর দোষ কি জনগণকে নিতে হবে? আপনি এলেন না, দোষ আপনার। এতে নির্বাচনেরও কোনো দোষ নেই। বৈধতারও কোনো সংকট নেই। আদালত কি তাদের (বিএনপি) মতো ঘোড়ার ঘাস খায় নাকি? যে সেই ব্যাপারে রায় দিয়ে দেবে। এখন তো মনে হয় আদালতের স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি রায় যে নির্বাচন কমিশনকে একটি ম্যান্ডেট দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে জিতাতে হবে, তা না হলে হয়তো দেশে আবার আগুন-সন্ত্রাস শুরু হবে। এটা দিলেই বিএনপি খুশি হবে।’

বিচারপতির পদত্যাগ অশনিসংকেত এ কথার জবাবে তিনি বলেন, যেভাবে নেতিবাচক রাজনীতি আঁকড়ে ধরেছে, এটা বিএনপির জন্য অশনিসংকেত। নির্বাচনে না এলে তাদের ভবিষ্যৎ অশনিসংকেত।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ইতিহাসের মহানায়কের বঙ্গপাশে ইতিহাসের ফুটনোটকে (জিয়াউর রহমান) তুলনা করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানকে যখন স্বাধীনতার ঘোষক বলা হয়, তখন মনে হয় তিনি কবরে শুয়ে ছটফট করেন। কারণ তিনি নিজেই বলে গেছেন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঘোষণা স্বাধীনতার গ্রিন সিগন্যাল।’

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।

বিএনপির মুখে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের কথা মানায় না: কাদের
যারা সন্ত্রাসের রাজনীতির সূচনা করেছিল তাদের মুখে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের কথা মানায় না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি জানান, ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হওয়ায় ১৮ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় তিনি বলেন, 'যারা আগুনে শ, শ, মানুষ পুড়িয়েছে। তারা বলে রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন আনবে। এজন্যই বললাম দুর্নীতিবাজরাই বেশি নীতি কথা বলে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'আমরা ১৮ তারিখ যে সমাবেশ করবো এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক নয়। এখানে যদি কেউ মেরুকরণ রাজনীতি খুঁজে পায় তবে সেটা আমাদের জন্য সুবিচার হবে না।'

রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভায় খালেদা জিয়া বলেছিলেন, তার দল শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না। তিনি আরো বলেন, ‘ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।’

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

নাগরিক সভায় বঙ্গবীর ও নাজমুল হুদা

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বঙ্গ . . . বিস্তারিত

এদেশে ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনখুলনা: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ৫ জানুয়ারির মত এদেশে আর কোনো . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com