নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো প্রয়োজন নেই: মেনন

১১ অক্টোবর,২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে একান্ত প্রয়োজনে ইসি আইনশৃংখলা রক্ষার স্বার্থে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনশৃংখলা বাহিনীর সহায়তাকারী বাহিনী হিসেবে অর্থাৎ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নিয়োগ করতে পারবেন।

বুধবার পার্টির ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলসহ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাথে সংলাপে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদ বহাল রেখে বর্তমান সরকারের অধীনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি বিএনপি নির্বাচনে আসবে এবং তারা যদি আত্মঘাতি হতে না চান তাহলে নির্বাচনে আসাটাই হবে তাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সিদ্ধান্ত।’

কমিশনের সাথে সংলাপে পার্টির পক্ষে ১৪দফা প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সরকার দৈনন্দিন কার্যাবলী ছাড়া নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। নির্বাচনের সময় স্বরাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধীনস্ত থাকবে।’

মন্ত্রী বলেন, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে একান্ত প্রয়োজনে ইসি আইনশৃংখলা রক্ষার স্বার্থে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনশৃংখলা বাহিনীর সহায়তাকারী বাহিনী হিসেবে অর্থাৎ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নিয়োগ করতে পারবেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি ভোট গ্রহণে ‘ব্যালট পেপারে’র পাশাপাশি ইভিএম প্রচলনের পক্ষপাতি।

তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় অন্তত একটি করে কেন্দ্রে ইভিএম-এ ভোটগ্রহণ করার জন্য ইসির কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

দলের উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-নির্বাচন পরিচালনার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনের পূর্বে ও পরে একটি নির্দিষ্ট সময়কালে নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। এই সময়ে তাদের কৃত কোনো অপরাধ ও কর্তব্যে অবহেলার জন্য নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে এবং সরকার তা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, যুদ্ধাপরাধে জড়িত এবং ধর্মকে ব্যবহারকারী কোনো দলকে নিবন্ধন না করা, আগামী নির্বাচনের আগে সীমানা পুনঃনির্ধারণ না করা, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা, স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর গ্রহণের শর্ত বাতিল করা, নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করা, জামানত ২০ হাজারের পরিবর্তে ১০ হাজার করা, নির্বাচনকে সন্ত্রাস ও পেশি শক্তি মুক্ত করা, নির্বাচনে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার বন্ধ করা, নির্বাচনে সবার সমান সুযোগ সৃষ্টি করার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে মেনন জানান।

আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ, ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

সমাবেশ করতে বিএনপিকে মৌখিক অনুমতি দিল ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বিএনপিকে বিক্ষোভ সমাবেশের মৌখিক অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে . . . বিস্তারিত

জনপ্রিয়তা না থাকায় সরকার ইভিএমের নামে ফন্দিফিকির শুরু করেছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারের নির্দেশে নির্বাচন . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com