ভিশন-২০৩০

কৃষি ও কৃষকদের জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণে কৃষি উৎপাদন ১০% বৃদ্ধির নতুন ভাবনা খালেদার 

১৮ মে,২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: বাংলাদেশকে একটি উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

গত ১০ মে সাংবাদিক সম্মেলনে ‘ভিশন ২০৩০’ নামে তিনি এই ভবিষ্যত মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এতে বাংলাদেশকে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে নানা সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ আড়াই শতাধিক দফা তুলে ধরেছেন বেগম জিয়া।অর্থাৎ একটি উচ্চমধ্যম আয়ের  উন্নত জাতি গঠনে যত সব পরিকল্পনার দরকার সবকিছুই এই ভিশনে উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে খালেদার পরিকল্পনা থেকে বাদ যায়নি দেশের কৃষি ও কৃষকদের কথা। দেশের অর্থনীতির মূলচালিকা শক্তি কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নে তিনি তার মহাপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন।

তার এই পরিকল্পনার মধ্যে কৃষিক ও কৃষকদেরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এই সেক্টরের উন্নয়নে নানামুখী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন।

দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও  বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, তীব্র জন-ঘনত্ব এবং ক্রম সংকোচনশীল কৃষি জমি বিবেচনায় নিয়ে উদ্ভাবনমূলক কৃষি-কৌশল গ্রহণ করা হবে। সমতল, পাহাড় ও হাওড়-বাওর এলাকার জন্য বিশেষ বিশেষ ফসল চাষের উপেযোগিতা বিবেচনায় রেখে ক্রপ-জোনিং উৎসাহিত করা হবে। কৃষকদের উচ্চফলনশীল এবং উচ্চমূল্য-ফসল চাষে উৎসাহিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের প্রয়াস টেকসই করার জন্য সঠিক বাজারজাতকরণ নীতি প্রণয়ন করা হবে। সেই সঙ্গে সেচের পানির প্রাপ্যতা এবং জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য খাল-খনন ও নদীশাসন কার্যক্রম জোরদার ও সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ। বাজার প্রক্রিয়াকে নানাভাবে প্রভাবিত করার ফলে কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। মূল্য-সমর্থন এবং উপকরণ ভর্তুকির সঠিক সংমিশ্রণ ঘটিয়ে কৃষক যাতে  তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় সে ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে ডাটা বেইস গড়ে তুলে রাষ্ট্রীয় সমর্থন পাওয়ার যোগ্য কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে।

বেগম জিয়া বলেন, উন্নত মানের বীজের দুষ্প্রাপ্যতা বাংলাদেশের কৃষকের একটি কঠিন সমস্যা। এই সমস্যার সমাধানকল্পে প্রত্যেক উপজেলায় বীজ-বর্ধন ও প্রক্রিয়াকরণ খামার গড়ে তোলা হবে। এ থেকে কৃষি উৎপাদন ৮% থেকে ১০% বৃদ্ধি পাবে।

কৃষি শ্রমিকদের দৈন্যতার কথা বিবেচনায় নিয়ে বেগম জিয়া আরো বলেন, ব্যস্ত মৌসুমে পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিকের অভাবে ঐ সময়ে কৃষি মজুরি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। কৃষি শ্রমিকের দুষ্প্রাপ্যতা মোকাবেলা করার জন্য লাগসই কৃষি-যন্ত্র উৎপাদনে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেয়া হবে। ব্যস্ততাহীন মৌসুমে উদ্বৃত্ত কৃষি শ্রমিকদের কাজে লাগানোর জন্য কৃষি বহির্ভূত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, বাজার প্রক্রিয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় কৃষক ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। উৎপাদন থেকে বাজারজাত পর্যন্ত প্রত্যেক স্তরকে সমন্বিত করে উর্ধমুখী সমবায় পদ্ধতি গড়ে তুলে ফসলের দেখভাল, বাছাইকরণ, মজুতকরণ এবং পরিবহন সুবিধাসমূহ সরাসরি কৃষকের নিয়ন্ত্রণে আনয়ন করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সমর্থন প্রদান করা হবে।

কৃষিখাত যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আধুনিক কৃষি নিবিড় গবেষণা নির্ভর। নতুন নতুন উচ্চ ফলনশীল বীজ, লবণাক্ততা নিরোধক বীজ, কম-তৃষ্ণার্ত ফসল, ফসল পাকার সময় হ্রাস, পোকামাকড় নিরোধক ফসল, একই মৌসুমে একাধিক ফসলের চাষ অথবা একই ফসল একাধিক মৌসুমে উৎপাদন এবং উপকরণ-সাশ্রয়ী ফসল প্রভৃতি উদ্ভাবনে আধুনিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করা হবে। জিএমও ফসল স¤পর্কে নিবিড় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পরিবেশ বান্ধব ও জাতীয় কল্যাণমুখী নীতি গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রীয় বাজেটের একটি যৌক্তিক অংশ কৃষি গবেষণার জন্য বরাদ্দ করা হবে।

দেশের উন্নয়নে কৃষি ভিত্তিক খামারের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কৃষিতে অতি ক্ষুদ্র আকারের খামার কৃষির বাণিজ্যায়ণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এ সমস্যা আরও প্রকট হবে। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনার মাধ্যমে ক্ষুদ্রায়তন খামারের বাণিজ্যায়ণের সমস্যা অতিক্রম করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
কৃষি নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে। এই ঝুঁকি মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও শস্য বীমা, পশু বীমা, মৎস্য বীমা এবং পোল্ট্রি বীমা চালু করা হবে। গরীব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত কৃষকের কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ করা হবে।


পশু পালন ও অন্যান্য কৃষিভিত্তিক খামারের উন্নয়নে তিনি বলেন,হাঁস-মুরগী ও মৎস্য খামারের জন্য নিরাপদ ‘ফিড’ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। বার্ড ফ্লু জাতীয় মড়ক থেকে হাঁস মুরগী রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। হাঁস মুরগীর পালক ও বিষ্ঠা পুনচক্রায়নের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা হবে।  হাঁস-মুরগী, মৎস্য, পশুসম্পদ, কৃষিজাত ফসল এবং বন-সম্পদ উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সেই সঙ্গে প্রতি উপজেলায় পর্যাপ্ত পশু-রোগ প্রতিষেধক ঔষধের যোগান নিশ্চিত করা এবং পশু-রোগ চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে। ছাগল, গবাদি পশু এবং মহিষের খামার গড়ে তোলার জন্য ব্যক্তি খাতকে প্রণোদনা দেয়া হবে। এছাড়া কৃষি-পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পখাতকে প্রণোদনা দেয়া হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়া  কৃষি জমি হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বলেন, কৃষি জমির অকৃষি ব্যবহার সাধ্যমত বন্ধ করা হবে। গ্রামাঞ্চলে গুচ্ছ-বসতির মাধ্যমে কৃষি জমির অকৃষি ব্যবহার রোধ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, কৃষি উন্নয়নের প্রধান লক্ষ্য হবে খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা বিধান। সুষম ও নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি (ক্যালরি, আমিষ, ভিটামিন, মিনারেল্স, ফ্যাট প্রভৃতি) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথোপযুক্ত প্রণোদনার মাধ্যমে গোটা কৃষি খাতকে পুনর্বিন্যাস ও বিকশিত করা হবে। কৃষিতে অনিরাপদ ও ক্ষতিকর সার ও কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করা হবে।

হাওর ও হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকা উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নানামুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়া বলেন, জিয়াউর রহমানই প্রথম ১৯৭৭ সনের ২২ ফেব্রুয়ারী হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেন। হাওর-অর্থনীতি এবং হাওর অঞ্চলের জনগন, তাদের জীবন-জীবিকা, ও পরিবেশ নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।  পরিকল্পিতভাবে কম জীবনকাল ফসলের চাষ, ভাসমান শাকসবজি আবাদ (Aquatic agriculture), নিয়ন্ত্রিতভাবে সেচ ব্যবস্থাপনা, মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা, জেলেদের আকাল সময়ে সাবসিডি প্রদান, পুরো হাওরকে পর্যটন উপযোগী করে গড়ে তোলার সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেয়া, পরিকল্পিতভাবে হাঁস চাষ সহ হাওরের জীব ও প্রাণীকুলের (Flora& fauna)সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কৌশল অবলম্বন এবং শুষ্ক মৌসুম ও ভেজা বর্ষায় হাওর অঞ্চলের অমিত সম্ভাবনাকে সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহন ও বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

২০ দলীয় জোটে থাকবে জামায়াত: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিনিধিআরটিএনএননীলফামারী: ‘আমাদের ২০ দলীয় জোট অটুট রয়েছে। এখনও জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়নি। তাই আগ . . . বিস্তারিত

গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ফিরে পেতে আন্দোলন গড়ে তুলুল: মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: দেশে গুম অপহরণের ঘটনা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটি . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com