বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে আ.লীগের দাম্ভিকতা অশনিসংকেত: রিজভী

১৭ ফেব্রুয়ারি,২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাদের লাফা-লাফি ও দাম্ভিকতা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অশনিসংকেত। এটা দেশের জন্য শুভ নয়, অশুভ লক্ষণ। এতে দেশ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। বাংলাদেশে এখনো তাদের হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ চলমান।

শুক্রবার সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বিশ্বব্যাংক সর্বনিম্নসুদে অর্থাৎ (শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ) সুদে ঋণ দেয়। অন্য কোনো জায়গা থেকে ঋণ নিতে হয় ৩ শতাংশ সুদ বা তারও ঊর্ধ্বে। সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের কথায় মনে হয়, তারা যেন হঠাৎ করে দুধ দিয়ে গোসল করে নতুন গ্রহ থেকে আবির্ভূত হয়েছেন। এই মন্ত্রী ও নেতারা সারা দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য বানিয়েছেন। এমন কোনো খাত নেই যেখানে দুর্নীতি নেই। লুট করে দেশের সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ফোকলা করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শেয়ার মার্কেটের লাখ কোটি টাকা লোপাট করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মী ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে তারা এখন সুইস ব্যাংক ভরে ফেলেছেন, কানাডায় বেগমগঞ্জ তৈরি করা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় সুরম্য ভিলা বানানো হয়েছে। তারাই এখন নিজেদের সাফসুতরো হিসেবে জাহির করে তারস্বরে চিৎকার শুরু করেছেন।

বিএনপির এই নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পদ্মা সেতুর ঠিকাদার নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের মামলায় কানাডীয় আদালতের রায়ের পর আওয়ামী লীগের নেতাদের লাফা-লাফি ও দাম্ভিকতায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। আর এতে চলমান অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নে সংকট হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনো বিশ্ব ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ চলমান। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি খাতে তাদের বড় বড় প্রকল্প রয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো ও দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন খাতে বিশ্ব ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থায়নে শতাধিক প্রকল্প চলমান আছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক সবচেয়ে বড় দাতা সংস্থা। কিন্তু কানাডীয় আদালতে রায়ের পর সরকারের মন্ত্রীরা বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করায় সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ সরকারের নির্দেশেই এনবিআর ও দুদক বাংলাদেশের অফিসে কাজ করা বিশ্বব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখে তাদের দুর্নীতির তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে এনবিআর বিশ্বব্যাংকের ১৬টি গাড়ি তলব করেছে। এত কিছুর পরও বিশ্ব ব্যাংক তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, খালেদা জিয়ার জন্য সংবিধান ও নির্বাচন বসে থাকবে না। ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-তাহলে কী শুধুমাত্র শেখ হাসিনার জন্যই ভোট-নির্বাচন বসে থাকবে? তার মুখ চেয়েই নির্বাচন হবে কী হবে না সেটি নির্ধারিত হবে? বিএনপি প্রত্যয়-দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চায় এই দল এবং দলের চেয়ারপারসন যিনি বারবার অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে অর্গলমুক্ত করেছেন তাকে ও তার দলকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারবে না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ ধরনের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে সুখের ইন্ধন দিতে পারে, কিন্তু জনগণের মধ্যে তা বড় ধরনের আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্যে যে ষড়যন্ত্র ও অশুভ পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত আছে তা কারো হৃদয়ঙ্গম করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন করার যেকোনো অপচেষ্টা এদেশের জনগণ সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দিবে। সংবিধান কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ নয় যে এটি সংশোধিত হতে পারবে না। যারা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে ভোটাধিকারকে কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে তারাই শুধু দেশের বড় দল ও দলের নেতাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে, যাতে তারা একচেটিয়া বিনা ভোটে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ হাট, ঘাট, মাঠ, টার্মিনাল, সাধারণ মানুষের জোত-জমি দখলের মতো ভোট ও নির্বাচনকেও দখল করে নিয়েছে। সংবিধানকে নিজেদের মতো করে সাজিয়েছে। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য সেই দখলেরই প্রতিধ্বণি। আওয়ামী লীগ ও ভোট সন্ত্রাস একে অপরের পরিপূরক। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে পার পাওয়া যাবে না। ভোটাধিকার মানুষের সহজাত অধিকার, তা কখনোই দাবিয়ে রাখা যায় না। ভোট সন্ত্রাস বনাম সুষ্ঠু নির্বাচনের দ্বন্দ্বেই মানুষের ভোটাধিকার বিজয়ী হবে, এটাই হচ্ছে ইতিহাসের নিয়ম।

তিনি বলেন, অবশ্যই বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া আগামী কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারবে না। আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হতে হবে। সরকারের অশুভ কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আর সম্ভব হবে না।

আগামী ৬ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য পাবনার সুজানগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজারী জাকির হোসেনের বাসায় গতরাত ৯টায় ৪ মাইক্রো ও মটরসাইকেল বোঝাই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, হাজারী জাকির হোসেনকে বাসায় না পেয়ে সন্ত্রাসীরা তার বাসায় ভাংচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আজকে যেহেতু মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন, সেজন্য আওয়ামী প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা তাকে জোর করে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের জন্যই গতরাতে তার বাসায় হামলা চালায়। ভাংচুর শেষ করে যাবার সময় সন্ত্রাসীরা বাড়ীর সদস্যদের হুমকি দিয়ে বলে যে, যদি হাজারী জাকির হোসেন মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার না করে তবে দেখে নেয়া হবে। এটিই নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের নতুন দৃষ্টান্ত যে, তাদের কর্তৃত্বে নির্বাচন কতোটুকু সুষ্ঠু হবে।

এ ঘটনায় ফেনী স্টাইলের আলামত শুরু হয়ে গেছে। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে এধরনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে হামলাকারী দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। সেখানে নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয় সেই দাবি জানাচ্ছি।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

হানাহানি করে যারা দেশকে ধ্বংস করতে চায় তাদের বিনাশ করতে হবে: কামরুল

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশে হানাহানি . . . বিস্তারিত

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে মায়ারমার: অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনগাজীপুর: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, রোহিঙ্গাদের তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করে বাংলাদেশের অ . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com