ইভিএম নিয়ে রাজনীতির মাঠ ফের উত্তপ্ত, শক্ত অবস্থানে আ.লীগ-বিএনপি

১৭ ফেব্রুয়ারি,২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

আরটিএনএন

ঢাকা: সংসদ নির্বাচনে ইলেট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক জমে উঠেছে। ফের রাজনীতির অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নিয়ে কথা বলার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে। বিএনপি বলছে, এটা দুরভিসন্ধিমূলক, আর আওয়ামী লীগ বলছে, রাজনৈতিক কারণেই বিরোধিতা করা হচ্ছে।


দেশে প্রথম ইভিএম ব্যবহার ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। সেটা ছিল একেবারেই সীমিত পর্যায়ে পরীক্ষামূলক ব্যবহার। এরপর নরসিংদী পৌরসভা এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পুরো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হয়।


তবে এ নিয়ে তখনই ব্যাপক বিতর্ক উঠেছিল। এর বিরোধিতা করেছিল বিরোধী রাজনীতি পক্ষ। ফলে ওই সময় এ পদ্ধতি তেমন একটা হালে পানি পায়নি। অনেকটা তা বন্ধ হয়ে যায়।


দীর্ঘ ছয় বছর পর বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নিয়ে কথা বলেন। এর পরই বিএনপি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।


বাংলাদেশে আগামী সংসদ নির্বাচনে ইলেট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের যে কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেটাকে দুরভিসন্ধিমূলক বলে বর্ণনা করেছে বিরোধীদল বিএনপি।


বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতারা বলেছেন, ইভিএম- এ সার্ভার নিয়ন্ত্রণের সুযোগসহ কারিগরি অনেক দুর্বলতার কারণে স্বচ্ছ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন।


আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, রাজনৈতিক কারণে এবং অজ্ঞতা থেকে এর বিরোধিতা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে।


নতুন নির্বাচন কমিশন কাজ শুরু করার মুহূর্তেই আবার বিতর্ক দেখা দিয়েছে ইভিএম ব্যবহারের প্রশ্নে। যদিও এপর্যন্ত চট্টগ্রাম,নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নির্বাচনে সীমিতপর্যায়ে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে। এখন বিতর্ক হচ্ছে সংসদ নির্বাচনে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা না করার ব্যাপারে।


বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইভিএম ব্যবহার করে আগামী সংসদ নির্বাচন করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।


বিরোধীদল বিএনপি এই পদ্ধতির বিরোধিতা করে আসছে। এবারও আপত্তি তুলেছে।


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ই-ভোটিং মেশিন যে কোনো জায়গা থেকে হ্যাক করা যায়। ফলে এটা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকছে। ভোট গ্রহণ এবং গণনার ক্ষেত্রে প্রভাবিত করাও সম্ভব। এর মাধ্যমে স্বচ্ছ্ব নির্বাচন হতে পারে না। সেজন্য আমরা মনে করছি, সরকার দুরভিসন্ধি থেকে এই ব্যবস্থার কথা বলছে।


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনে করছে, রাজনৈতিক কারণে বিএনপি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করছে।


এই বিরোধিতাকে সরকার এবার আমলে নিতে রাজি নয়, দলের নেতাদের অনেকে এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, অজ্ঞতা থেকেও ইভিএম এর বিরোধিতা হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।


সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ইভিএম ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু এখনও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বাইরে এর প্রয়োগ হয়নি।


প্রথম ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সীমিত পর্যায়ে ইভিএম ব্যবহার হয়। এরপর নরসিংদী পৌরসভা এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পুরো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হয়।


সেই কমিশনে নির্বাচন কমিশনার ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলছেন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে তাদের অভিজ্ঞতা বেশ ভাল ছিল।


ব্যালট ছাপানো বা সিলসহ আনুষঙ্গিক অনেক কিছুর প্রয়োজন হয় না। সঠিকভাবে এবং অল্প সময়ে ভোট গণনা করা যায়। যারা এর বিরোধিতা করছে, তারা কখনও মেশিন বা ব্যবস্থাটি স্বচক্ষে দেখার আগ্রহও দেখায়নি, বলছেন হোসেন।


নির্বাচন কমিশনের সচিব মো: আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞ কমিটিটি দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধান বের করবে। কমিটি মার্চ মাসে কমিশনে সুপারিশ দেবে। এটির নাম ইভিএম এর বদলে ডিজিটাল ভোটিং মেশিন বা ডিপিএম হবে।


নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা আরো বলেছেন, কমিশন এই ব্যবস্থায় আগামী সংসদ নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেবে। তবে নিবন্ধিত সব দল এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে আলোচনা করেই নতুন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

মন্তব্য

মতামত দিন

রাজনীতি পাতার আরো খবর

নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিনিধি আরটিএনএনঠাকুরগাঁও: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে গেলে . . . বিস্তারিত

ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতিকে খালেদা, ফখরুলের অভিনন্দন

নিউজ ডেস্কআরটিএনএনঢাকা: বৃহস্পতিবার ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় র . . . বিস্তারিত

 

 

 

 

 

 



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com