আরবী শেখার প্রয়োজনীয়তা

নাহিদ হাসান ১৭ জানুয়ারি,২০১৬
নাহিদ হাসান

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর এবং সালাত ও সালাম তাঁর রাসূলের প্রতি।

পার্থিব লাভ কিংবা আগ্রহ যেটাই হোক না কেন মাতৃভাষার বাইরেও আমরা অনেক ভাষা শিখে থাকি। তবে এর মধ্যে আরবী ভাষা শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুব বেশি নয় যেহেতু আমরা এটা শিক্ষা করার লাভ সম্পর্কে অবগত নই অথবা তেমনভাবে চিন্তা করে দেখিনি।

সেক্ষেত্রে আসুন আমরা প্রথমেই দেখি আরবী ভাষা শিখলে আমাদের কী ধরনের উপকার হতে পারে।

প্রথমত, অবশ্যই কুরআনকে বুঝতে পারা। মহান আল্লাহ কুরআনে যেখানে আরবী ভাষার উল্লেখ করেছেন সেখানে আরবী ভাষার মর্যাদা বর্ণনা করেননি বরং মূলত এটা বুঝিয়েছেন যে তোমাদের জানা আরবী ভাষায় নাযিল করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার। তিনি বলেন,

إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ

আমি একে করেছি কোরআন, আরবী ভাষায়, যাতে তোমরা বোঝ। [৩-৪৩]

অন্যান্য কিতাবগুলোও স্বস্ব নবীর মাতৃভাষায় নাযিল হয়েছে। ভাষাটা এখানে মুখ্য নয়। মুখ্য হলো বার্তা বা সংবাদ যা মহান আল্লাহ তার বান্দাদের বোঝাতে চান। আরবীকে এজন্যই কুরআনের ভাষা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে যেন আরববাসীরা তা বুঝতে পারে।

মহান আল্লাহ বলেন,

كَذَٰلِكَأَوْحَيْنَاإِلَيْكَقُرْآنًاعَرَبِيًّالِّتُنذِرَأُمَّالْقُرَىٰوَمَنْحَوْلَهَا

এমনিভাবে আমি আপনার প্রতি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি, যাতে আপনি মক্কা ও তার আশ-পাশের লোকদের সতর্ক করেন। [৪২-৭]

তাহলে প্রশ্ন আসে যে, অনারবরা যাদের ভাষা আরবী নয় তারা কীভাবে বুঝবে?

উত্তর খুব সহজ, তাদেরকে এটা শিক্ষা করতে হবে। আর যেহেতু এই কাজটা পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষকেই করতে হবে, এজন্য মহান আল্লাহ এর শিক্ষাকে সহজ করেছেন। মহান প্রভু বারংবার কুরআনে উল্লেখ করেন,

وَلَقَدْيَسَّرْنَاالْقُرْآنَلِلذِّكْرِ

আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। [৫৪: ১৭]


দ্বিতীয়ত, আরবী জানলে কুরআনের আয়াত বা হাদিস মুখস্থ করা অনেক সহজ হয়ে যায়। উদাহরণ স্বরূপ আমরা সূরা কদরের নিম্নোক্ত আয়াত তিনটি লক্ষ্য করি,

إِنَّاأَنزَلْنَاهُفِيلَيْلَةِالْقَدْرِ[٩٧:١] وَمَاأَدْرَاكَمَالَيْلَةُالْقَدْرِ[٩٧:٢] لَيْلَةُالْقَدْرِخَيْرٌمِّنْأَلْفِشَهْرٍ[٩٧:٣]

প্রথম আয়াতে আমরা দেখছি— ‘লাইলাতিল কাদরি’
পরের আয়াতগুলোতে— ‘লাইলাতুল কাদরি’।

যারা আরবী জানেন না তারা মনে রাখেন এভাবে যে প্রথমে ‘লাইলাতিল’ আর ওপরের দুটিতে ‘লাইলাতুল’।

এমনিভাবে কুরআনে আপনি দেখবেন কোথাও মু’মিনুন আবার কোথাও মু’মিনিন। সাধারণভাবে মুখস্থ রাখা অনেক কষ্টসাধ্য কিন্তু আরবী জানা থাকলে বাক্যের গঠনই আপনাকে বলে দেবে কোথায় কী হবে।

তৃতীয়ত, কুরআন হাদিসের উপস্থাপন সহজ ও প্রাণবন্ত হবে যখন আপনি ভাষার প্রয়োগ ও প্রকাশ সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন। আরবী না জানলে আপনাকে আলাদা করে পুরো বাক্যের অর্থ মুখস্থ করতে হবে। সেক্ষেত্রে একদিকে যেমন দ্বিগুণ সময় ও শ্রম প্রয়োজন তেমনি আয়াত বা হাদিসের শব্দে শব্দে বিচরণ করা সম্ভব হয় না।

চতুর্থত, কুরআনের অনেকগুলো অলৌকিকত্বের মধ্যে একটা হল তার ভাষা। যেটা চোখ দিয়ে দেখা যায় না, অন্তর দিয়ে দেখতে হয়। আরবী ভাষা বোঝা ব্যাতিত এই আধ্যাত্মিকতা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।

কুরআনের অলঙ্কার, ছন্দ ও তথ্যের উপস্থাপন এমন যে মহান আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতিকে চ্যালেঞ্জ করে রেখেছেন যে— কেউ এর মত একটা সূরাও রচনা করতে পারবে না। মহান আল্লাহ বলেন,

وَإِنكُنتُمْفِيرَيْبٍمِّمَّانَزَّلْنَاعَلَىٰعَبْدِنَافَأْتُوابِسُورَةٍمِّنمِّثْلِهِ

এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। [২: ২৩]

মানুষ ও জিন উভয়ে মিলেও কেন কুরআনের একটা সূরা রচনা করতে পারবে না? কী এমন গভীরতা এর মাঝে যেখানে কেউ কোনদিন পৌছাতে পারবে না? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদেরকে অবশ্যই আরবী জানতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা অনুবাদ কখনই আল্লাহর কালাম নয়। একটা ভাষার অনুবাদ কখনওই মূলভাষাকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ একটি বাংলা কবিতার ইংলিশ অনুবাদ পড়ে যদিও কবিতার ভাবার্থ বোঝা যায় কিন্তু কখনই কবিতার আসল স্বাদ ও সৌন্দর্য্য উপলব্ধি করা যায় না।

সবকিছু বিবেচনায় বলা যায়— মহান আল্লাহর কালামকে পুরোপুরিভাবে অনুভব করতে হলে আরবী জানার বিকল্প নাই।

মন্তব্য

মতামত দিন

অন্যান্য কলাম

adv


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com