মৈত্রী এক্সপ্রেস—যেন এক শাঁখের করাত

কৃষিবিদ মো. সাদেকুজ্জামান ২৮ জুলাই,২০১৫
কৃষিবিদ মো. সাদেকুজ্জামান

চলতি বছরের ১২ জুন আমি ও আইসিডিডিআরবি-ঢাকায় কর্মরত ডা. আশরাফুল ইসলাম রাজীব মৈত্রী এক্সপ্রেসযোগে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। দিনটি ছিল শুক্রবার। সকাল ৮.১০ মিনিটে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে কলকাতার উদ্দেশ্য ছেড়ে যায় ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস।

ঢাকা থেকে সীমান্ত রেলস্টেশন চূয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনার দূরত্ব ২৫৫ কিলোমিটার। দর্শনা সীমানা পেরিয়ে গেলে পশ্চিমবঙ্গের গেদে স্টেশন। এই স্টেশন থেকে কলকাতার চিৎপুর স্টেশনের দূরত্ব ১২০ কিমি.। মোট দূরত্ব ৩৭৫ কিমি. (২৫৫+১২০) পথ পাড়ি দিতে গিয়ে সময় লাগে ১০-১২ ঘন্টা।

ভেতর থেকে ট্রেনের গতি ভালোই মনে হচ্ছিল। কিন্তু এ ১০-১২ ঘন্টা সময়ের মধ্যে বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন দর্শনা সীমান্ত এবং ওপারের গেদে কাস্টমস ইমিগ্রেশন পর্ব সমাপ্ত করতে দুই-দুই চার ঘন্টা সময় ব্যয় হয়।

মৈত্রী এক্সপ্রেসে ঢাকা টু কলকাতা ভ্রমণে দর্শনা ও গেদে বর্ডার পাসিংয়ের এ দুটি স্থান ঘিরেই রয়েছে বিচিত্র পরিবেশের নানান অসংগতির চিত্র। এর মধ্যে রয়েছে দর্শনা ইমিগ্রেশন নামক দুর্দশাপূর্ণ ইমিগ্রেশন সিস্টেম এবং ভারতের গেদে কাস্টমস ইমিগ্রেশনে নির্লজ্জ উৎকোচ বাণিজ্যের বিষয়গুলো।

অনেক আগে ১৯৬৫ সালে খুলনা-কলকাতার মধ্যে যখন ট্রেন সার্ভিস চালু ছিল তখন ট্রেনের মধ্যেই কাস্টমস ইমিগ্রেশন সারা হতো, তাতে করে ভ্রমণের ক্লান্তিকর সময় বেঁচে যেত এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ কম হতো।

যা হোক, ঢাকা ক্যান্টেনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনে চেকিংয়ের পর ৮.১০ মিনিটে যাত্রা করে দুপুর ২টায় দর্শনাতে পৌঁছলাম। সেখানে এক এলাহী কাণ্ড। হুড়মুড় করে লাইনে দাঁড়ানো, পাসপোর্টে সিল মারতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করাসহ আনুষঙ্গিক কাজ সারতে প্রায় ২ ঘন্টা সময় ব্যয় হয় যা সত্যিই বিরক্তিকর ও কষ্টদায়ক এবং ভড়কে যাওয়ার মত বিড়ম্বনা।

এরপর ইমিগ্রেশন রুমের মধ্যে কতিপয় পুলিশ সদস্যের অযাচিত উৎকোচ গ্রহণের উৎপাত। তাড়াতাড়ি পাসপোর্টে সিল লাগিয়ে নেবেন নাকি, দ্রুত লাগবে নাকি, দেন পাসপোর্ট দেন— ইত্যাদি বাহারি রকমের কথাবার্তা আর অনিয়মের মহড়া চলতে থাকে।

আমার কাছে এমনই একজন আসে যার নামের আদি অক্ষর শা শেষ অক্ষর ত। দেখতে অনেকটা বোকা প্রকৃতির কিন্তু টাকা কামাইয়ে সিদ্ধহস্ত। বেচারীকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, সে একা নয় এমন অনেকেই আছে এখানে। তারা একই ধাঁচের অনৈতিক বাণিজ্যে সিদ্ধহস্ত।

আমি লাইনে দাঁড়িয়েই নেব, দেরি হোক বলায় সে অন্যত্র চলে যায়। জনপ্রতি ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা বা তার চেয়েও বেশি অর্থাৎ যার কাছ থেকে যেমন পাওয়া যায়। নির্লজ্জের মতো প্রকাশ্যে টাকা চাচ্ছে। কেউ দেখার নেই। কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে।

যা হোক পাসপোর্টে সিল, কাস্টমস ইমিগ্রেশন পর্ব সেরে রুম থেকে বেরিয়ে দর্শনা স্টেশনের চর্তুদিকে ভালো করে চোখ বুলালাম। দেখলাম দর্শনার প্রকৃতি সত্যিই সুদর্শনা। আশেপাশে নয়নাভিরাম সবুজ গাছগাছালি এবং খানিক দূরেই ভারতভূমির ওপারের দৃশ্যাবলীর হাতছানি।

স্টেশনের প্লাটফর্মে পায়চারি করতে করতে কথা হলো আরেক পুলিশ সদস্যের সাথে। বাড়ি বগুড়া। ভাব জমালাম, কথা প্রসঙ্গে আমি এসব অনিয়মের বিষয় বিনয়ের সঙ্গে জানার চেষ্টা করলাম। তিনি জানালেন, শিগগিরই ইমিগ্রেশন রুমে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। তখন এসব অনিয়ম অনেকাংশে কমে যাবে।

মনে মনে ভাবলাম তাই যেন হয়। এখানে ডিউটি করতে কেমন লাগে জানতে চাইলে তিনি বলেন— ভালোই লাগে, কোন সমস্যা নেই, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় অন্যান্য স্থানে যেমন চাপে থাকতে হয় এখানে তেমন বাড়তি চাপ নেই।

দর্শনায় ইমিগ্রেশন পর্ব শেষ হবার পর কয়েক মিনিটের মধ্যে আবার ভারতীয় ইমিগ্রেশন। গেদে স্টেশন। গেদে স্টেশন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায়। ট্রেনে এটেনডেন্টকে জিজ্ঞাসা করে জানলাম উভয় দেশের ভেতরে কেবল ট্রেনের বগি প্রবেশ করে।

তিনি জানালেন, বাংলাদেশের ট্রেন ভারতে প্রবেশ করার পর ভারতীয় রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের দেয়া স্টাফ, সিকিউরিটি, ট্রেনের কেন্টিন ও ভারতীয় ইঞ্জিন এ ট্রেনকে কলকাতা পর্যন্ত নিয়ে যাবে। তদ্রূপ ভারতের ট্রেন বাংলাদেশে প্রবেশের পর দায়দায়িত্ব বাংলাদেশের উপর। যার যার দেশের সীমানায় আসা সংশ্লিষ্ট ট্রেনের নিরাপত্তা, কেন্টিন ম্যানেজমেন্ট, এটেনডেন্ট, স্টাফ স্বাগতিক দেশের উপর বর্তায়।

যথারীতি ভারতের গেদে স্টেশনে এসে আবার কাস্টমস ইমিগ্রেশনের জন্য ট্রেন থামল। ইমিগ্রেশনের জন্য লাগেজসহ যাত্রীদের নামতে হয়। নেমেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো। লাগেজ ইসিল রেপিস্ক্যানে স্ক্যানিং করা। অতঃপর ইমিগ্রেশন রুমে প্রবেশ করে ইমিগ্রেশন অফিসারের ডেস্কের সামনে লাগেজসহ নিজেকে হাজির করা।

অফিসার পাসপোর্ট হাতে নিয়েই বললেন, দাদা প্রথম এসেছেন নাকি আরো এসেছেন? তারপর ব্যাগ তল্লাশি। নানান বাহানা। মনে হচ্ছে আপনাকে চাপাতি দিয়ে কোপানির পূর্ব মহড়া। হঠাৎ বলে বসল, ‘দাদা কিছু খরচাপাতি তো দিতে হবে।’ আমি বললাম, কেন লাগবে দাদা? জবাব—অনেক কাজ সে আপনে বুঝবেন না। রাতে আমাকে আপনাদের এসব কত ফরম যে পূরণ করতে হয়। খরচপাতি না দিলে তো হয়না।

চাহিবামাত্র দায়িত্ববানের মতো উৎকোচ দিয়ে দিলে কোন সমস্যা নেই। একটু গড়িমসি করলে বা কমবেশি করলে কিংবা না দিতে চাইলে ভেতরের বড় কর্তার রুমে তলব করা হয়। যেন আপনি ডাকাতি বা দশ-দশটি হত্যা মামলার আসামি।

বড় কর্তার রুমে গেলে কয়েকগুণ বেশি মাশুল আপনাকে দিতেই হবে। কেউ অনুনয় বিনয় করে তাদের আবদারের মাত্রা কমাতে চাইলে দেশ, জাতি ও গোষ্ঠিসুদ্ধ উদ্ধার করে ছাড়ে। দাঁত চিবিয়ে এমন অবমাননাকর কথা বলে যে কোন ব্যক্তিত্ববান লোকের মেজাজ বিগড়ে যাবে। কিন্তু আপনি অসহায়, কিছু করার নেই।

গেদের ইমিগ্রেশনের স্টাফদের উৎকোচ বাণিজ্য ও দুর্ব্যবহার বড় নির্মম ও ভয়াবহ। আপনাকে তখন মানুষ মনে হবে না, নিজেকে তখন ইঁদুর বা এক্সপেরিমেন্টাল গিনিপিগ মনে হবে। মনের কষ্ট কেবল বাড়বে। এভাবেই  ২ ঘন্টা সময় পার হয়ে যাবে। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন পর্ব শেষে সোজা ২ থেকে আড়াই ঘন্টা ট্রেন চলে সন্ধ্যা ৭টায় বা সাড়ে সাতটায় কলকাতার চিৎপুর স্টেশনে অর্থাৎ কলকাতায় পৌঁছানো।

ক্লান্তি ও মনের ঝঞ্জাল দূর করা যায় কেবল নয়নাভিরাম দৃশ্য, সবুজ প্রকৃতির কাছে নিজেকে হারিয়ে ফেলার মাধ্যমে। রেল লাইনের দুই ধারে এবং দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত সবুজ গাছপালা, প্রচুর নারিকেল, আম ও খেজুর গাছ দেখতে পাওয়া যায়। ঝোঁপঝাড়ে ভরপুর। মনে হবে প্রকৃতিকে তার আপন মহিমায়ই থাকার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।

দূরের কিংবা অদূরের গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে প্রতিটি বাড়ি যেন বাগানবাড়ি। যেন বিভূতিভূষণের পথের পাচালীর অপুর মতো মনে হচ্ছিল নিজেকে। বঙ্কিমনগর হল্ট, রানাঘাট হল্ট— অনেক বড় জংশন, সুদৃশ্য চাকদহ পৌরসভা, কল্যাণী, নৈহাটি, ইছামতি— চব্বিশপরগণা জেলায় অবস্থিত, বারাকপুর হয়ে ক্লান্তিময় চোখে দেখতে দেখতে কলকাতার চিৎপুর স্টেশন।

চিৎপুর নেমে ট্যাক্সিযোগে বাংলাদেশিদের প্রিয় ও নিরাপদ জায়গায় মার্কুয়েজ স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটের যে কোন হোটেলে যা ঢাকা থেকে আগে বুকিং করে কিংবা গিয়ে বুকিং করে উঠে পড়া যায়। পশ্চিমবঙ্গ ভ্রমণ, দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান এবং সামাজিক পরিবেশ সম্পর্কে অনেক কিছুই লেখা যায়। তবে এ লেখায় সেটা সম্ভব নয়।

ম্যারাথন কয়েকদিনে পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতার দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করে, দেখে জ্ঞানের খোরাক সংগ্রহ করে গেদে-দর্শনা দিয়ে দেশে ফেরার বাজে ঝামেলার কথা স্মরণ হতেই মন বিষিয়ে ওঠে।

‘দর্শনা-গেদে এ যেন এক শাঁখের করাত’—উভয়দিকে কাটে, যেতেও কাটে, ফিরতেও কাটে। দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে ফিরে এবং আত্মীয়-স্বজনদের জন্য কেনাকাটা করে যে মজার তৃপ্তি নিয়ে ১৬ জুন, ২০১৫ ফিরছিলাম তা অনেকখানি ম্লান ও বিস্বাদ হয়ে যায়—গেদে ও দর্শনার বীভৎস ও নিষ্ঠুর উৎকোচ যন্ত্রণায়।

ফেরার সময় এখানে পোহাতে হয় অনেক বিড়ম্বনা। কেনাকাটার কারণে ব্যাগ দেখে গেদের কাস্টমস পুলিশ কর্মকর্তাদের মাথা খারাপ হয়ে যায়। কে কত খাবে ও গিলবে সে চিন্তায় অস্থির।

কলকাতা থেকে গেদে স্টেশনে এসে লাইনে দাঁড়ানো। গেদের পুলিশ যাত্রীদের সাথে যাচ্ছে-তাই ব্যবহার করছে। বাংলাদেশিরা ওখান থেকে কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় পছন্দনীয় জিনিস কিনে নিয়ে আসে। এ কেনাটাই কাল। দেশের টাকা খরচ করা হলো তাদের দেশে, লাভবান হলো তারা অর্থাৎ ভারত, কষ্ট করে বোঝা টানল ব্যক্তি (৪০ কেজির বেশি নয়), আবার গেদের কর্মকর্তাদের আহামুকি দাপট, পাসপোর্ট হাতে নিয়েই ব্যাগ তল্লাশির নামে হয়রানি।

খুশিতে টগবগ, বেশামাল হয়ে যায়, খুশির জোরে খেই হারিয়ে ফেলে—আর মাথায় আগুন কত টাকায় চাবে? খুশির চোটে যাত্রীদের গায়ে পর্যন্ত হাত উঠাতে পিছপা হয়নি। বৃদ্ধ ও অসুস্থ (চিকিৎসা গ্রহণকারীরা) যাত্রীদের লাগেজ টানতে কষ্ট হয়, স্থানীয় স্টেশনের কুলিরা সামান্য পয়সার বিনিময়ে যাত্রীদের মালামাল ও লাগেজ বহনে সহায়তা করে। কিন্তু ইমিগ্রেশনের পুলিশ ও কর্মকর্তারা তাতে বাধা দেয় বেশি পয়সা খাওয়ার লোভে।

আমি ভালোভাবে লক্ষ্য করছিলাম—কি হয় আর কি ঘটে তা বোঝার জন্য। আমার সামনে কয়েক যাত্রীকে ধাক্কা মারল। যাত্রীদের সাথে তুই তুকারী ব্যবহার করা হলো। আমরা বিদেশি—আমরা কী করব? দেখলাম স্টেশনের কুলিরা চরম প্রতিবাদ করল, বাকযুদ্ধে লিপ্ত হলো এবং বলল, আমরা যাত্রীদের মালামাল বহন করব, এভাবে যাত্রীদের গায়ে হাত তোলা আপনাদের ঠিক হচ্ছে না। আর্ন্তজাতিক আইন অমান্য করা করা হচ্ছে। পুলিশ বলল—‘যা যা কিছুই হবে না।’

কাস্টমস রুমে ঢোকার পর আমার ব্যাগ তল্লাশি করল এবং কী কী এনেছি তা জানতে চাইল। যা যা ছিল তা বললাম। এরপর মুখ গাম্ভীর করে বেশি মাত্রায় উৎকোচ দাবি করল। আমি বললাম, দাদা আমার কাছে ঢাকা থেকে বাড়ি যাওয়া পর্যন্ত টাকা আছে। এর বেশি নেই। আমি আপনাকে টাকা দিতে পারব না।

মনে মনে কঠিন সিদ্বান্ত নিলাম—যা হবার হবে কিন্তু ঘুষ দেব না। আমাকে ভেতরে বড় কর্তার রুমে নেওয়ার জন্য হুকুম দিল। সেখানে গেলাম। গিয়ে দেখি আমার মতো আরো অনেককেই সেই রুমে নেওয়া হয়েছে। এক একজনের সাথে মারাত্মক খারাপ আচরণ করছে।

এক বাংলাদেশি ভাই ভেতরের পুলিশকে বলল, দাদা মনে খুব কষ্ট পেলাম। পুলিশ মনের খুশি মতো তুই তুকারী করছে আর নাজেহাল করছে। সম্ভবত তারা বেশি মাত্রায় উৎকোচ দিয়ে কোনো মতে হাফ ছেড়ে মুক্তি পেয়েছিল। মনোবল আরো সুদৃঢ় করলাম। আমার পালা। দেখি কী হয়। আগেই মহান রবকে মনে মনে বলছিলাম, হে রব! মান-সম্মান তোমার কুদরতি হাতে। বেইজ্জতি করো না।  

যাহোক, আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কেন যেন আপনি সম্বোধন করলেন। যাক তুই বলা থেকে বাঁচলাম। মনে মনে মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালাম। প্রশ্ন করতেই আমি বললাম— দাদা আমি সততার সাথে জীবন যাপন করার চেষ্টা করি। দয়া করে আমাকে এ কাজ (ঘুষ) করতে বলবেন না। এ কথা বলতেই পুলিশ বলল— ঠিক আছে আপনি তিনশত টাকা দেন। বললাম দাদা না দিলে হয় না। বললেন, না তাহলে পারবো না। এর কমে হবে না।

অপারগ হয়ে মনের বিরুদ্ধে তিনশত টাকা দিয়ে হাফ ছেড়ে যেন মুক্তি পেলাম। দর্শনা ইমিগ্রেশনে পূর্বের অবস্থাই বিরাজমান। এক উপজাতি মহিলা পুলিশ উপকারের নামে কিছু বকশিস হাতিয়ে নিল। সবশেষে ৬.৩০ মিনিটে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছলাম। এরপর ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ভ্রমণের সমাপ্তি টানলাম।

বলা উচিত, দেশের একমাত্র এই দর্শনা রেলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রেলপথে বিভিন্ন প্রকার পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়। এ বন্দর দিয়ে  একসাথে পুরো ৪০ ওয়াগন অর্থাৎ আড়াই হাজার মেট্রিক টন পণ্যের জন্য এলসি করতে হয়। এ বিবেচনায় এই রেলবন্দরের শুল্ক স্টেশনে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় অর্থনৈতিক দিক থেকে দর্শনা রেলবন্দর অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর এ মহৎ উদ্যোগ নিয়ে দু’দেশের সরকার নিঃসন্দেহ প্রশংসার দাবি রাখে। কারণ এটি কেবল ভ্রমণ বা পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং অসংখ্য মৃত্যুপথযাত্রী অসুস্থ রোগী চিকিৎসার্থে এই দর্শনা-গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাতায়াত করে। সুতরাং এ বর্ডার পাসিংয়ের পদ্ধতি যত সহজ ও পরিমার্জিত হবে মানুষের ভোগান্তি তত কম হবে। তখনই কেবল এ উদ্যোগকে প্রাণভরে স্বাগত জানাবে মানুষ।

তাই প্রত্যাশা— জনগণের কল্যাণে দু’দেশের সরকার দর্শনা-গেদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এসব বাজে প্রতিকূলতা ও অনিয়মের ফাঁদে পড়ে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস যে উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে তা যেন ব্যাহত না হয়।

প্রত্যাশা রইল, দু’দেশের সরকার যাত্রীদের আনন্দময় ও বিড়ম্বনাহীন ভ্রমণের সুযোগ দিয়ে এর ঐতিহ্য ও সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে।

‘যা, যা কিছুই হবে না’— এই তত্ত্ব বা স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ যেন কোন অশুভ শক্তির মানসপটে স্থায়ী ভিত্‌ গড়তে না পারে সেজন্য আশু প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে— দু’দেশের জনগণ এটা বিশ্বাস করতে চায়।

লেখক: কৃষিবিদ, বাকৃবি, ময়মনসিংহ

মন্তব্য

মতামত দিন

অন্যান্য কলাম

adv


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান,
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com