রামপালে ১৫ ভাগ বিনিয়োগে ভারতের মালিকানা ৫০ ভাগ

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ০৭ অক্টোবর,২০১৩
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

বাংলাদেশের সুন্দরবনের কাছে রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে এবং পূর্বঘোষিত সময়ের আগেই ভিত্তিস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে, এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে সুন্দরবন বাঁচাও ও তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি লংমার্চ করেছে এবং এটি স্থাপন না করার জন্য সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কেন তারা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে, এর ক্ষতিকর দিকগুলো কি তাছাড়া সরকারই বা কেন সেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে চাচ্ছে এসব সামগ্রিক বিষয়ে কথা বলেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ। রেডিও তেহরানের সৌজন্যে পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো;

রেডিও তেহরান: রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে আপনারা আন্দোলন করছেন কেন, এর ক্ষতিকর বিষয়গুলো আসলে কি?

আনু মুহাম্মদ: রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে নানাবিধ ক্ষতি হবে। তারমধ্যে অন্যতম উদ্বেগের জায়গা বা ক্ষতিকর বিষয় হিসেবে আমরা তিনটি বিষয়কে উল্লেখ করেছি। বিষয়গুলো হচ্ছে- প্রথমত: বাংলাদেশের সরকার রামপালে কয়লা দিয়ে তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভারতের কোম্পানী ‘এনটিপিসি’র সঙ্গে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুক্তি করেছে। এই চুক্তিটি পুরোপুরি অসম এবং অস্বচ্ছ একটি চুক্তি। ভারতের সাথে ওই চুক্তির টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনসগুলো পুরোপুরি বাংলাদেশে স্বার্থের বিরুদ্ধে।

দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে- আইনগত বা বিধিসম্মতভাবে এটা এই চুক্তি করা হয়নি। আন্তর্জাতিক আইন এবং দেশীয় আইন অনুযায়ী চুক্তি করলে প্রথমে এ ব্যাপারে এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট এ্যাসেসমেন্ট করতে হবে তারপর চুক্তির বিষয়। কিন্তু এটি না করেই চুক্তির দেড়/দুবছর আগে থেকেই জমি অধিগ্রহণ শুরু করেছে সরকার। আর এই জমি অধিগ্রহণ নিয়েও চলেছে নানারকম অনিয়ম। জোরপূর্বক সেখান থেকে জমি অধিগ্রহণ করে মানুষদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের প্রকৃত নাম মুহাম্মদ আনিসুর রহমান। তিনি ১৯৫৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি এবং তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব। ঢাকায় লেখাপড়া শেষ করে ১৯৮২ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে যোগদান করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদী শোষণ, বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ রক্ষার আন্দোলনসহ যে কোনো প্রকার নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন তিনি। বাংলাদেশে মার্কসীয় অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অর্থনীতি সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি সবচেয়ে পরিচিত লেখক। তিনি ইন্টারনেট পত্রিকা মেঘবার্তার  সম্পাদক। তার প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ হলো- বিশ্ব পুঁজিবাদ ও বাংলাদেশের অনুন্নয়ন; বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও সমাজ; বাংলাদেশের উন্নয়ন সংকট এবং এনজিও মডেল; বাংলাদেশের কোটিপতি; মধ্যবিত্ত ও শ্রমিক; অনুন্নত দেশে সমাজতন্ত্র: সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতা; ক্রান্তিকালীন বিশ্ব অর্থনীতি ও উন্নয়ন সাম্রাজ্য; পুঁজির আন্তর্জাতিকীকরণ ও অনুন্নত বিশ্ব; সমাজ, সময় ও মানুষের লড়াই; ধর্ম, রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন; বাংলাদেশের উন্নয়ন কি অসম্ভব?; কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার ও বহুজাতিক মানুষেরা; নারী, পুরুষ ও সমাজ; রাষ্ট্র ও রাজনীতি: বাংলাদেশের দুই দশক; বাংলাদেশের অর্থনীতির চালচিত্র; আতঙ্কের সমাজ সন্ত্রাসের অর্থনীতি; অর্থশাস্ত্রের মূলনীতি; বাংলাদেশের তেল-গ্যাস: কার সম্পদ কার বিপদ; বিশ্বায়নের বৈপরীত্য; বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিমুখ; মানুষের সমাজ; উন্নয়নের রাজনীতি; বিপ্লবের স্বপ্নভূমি কিউবা; বিশ্বায়িত পুঁজিবাদে ল্যাটিন আমেরিকা; ফুলবাড়ী, কানসাট, গার্মেন্টস ২০০৬; কোথায় যাচ্ছে বাংলাদেশ; Development or Destruction, Essays on Global Hegemony, Corporate Grabbing and Bangladesh.

এছাড়া আরো একটি অন্যতম ক্ষতিকর দিক হচ্ছে- বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য এমন একটা জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে যেটি সুন্দরবনের অতি নিকটবর্তী; বলা যায় সুন্দরবনের একটি অংশ। সেখানে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করা হলে যে দূষণ তৈরি হবে তাতে সুন্দরবন বাঁচানো যাবে না বলে মত দিয়েছেন এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করা বিশেষজ্ঞগণ।

সুন্দরবন হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বন। একইসঙ্গে এটি হচ্ছে বৃহত্তম প্রাকৃতিক দুর্যোগ রক্ষা বর্ম। উপকূলে যত ঝড় ঝঞ্চা, জলোচ্ছ্বাসসহ যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসে সেসব থেকে মোকাবেলা করার মতো একটা বিশাল শক্তি সুন্দরবনের আছে। তাছাড়া জীববৈচিত্রের দিক থেকে এই সুন্দরবন অসাধারণ একটি বন। অসংখ্য প্রাণ এখানে আছে। আর পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট হচ্ছে এই সুন্দরবন। আর এই সুন্দরবনের ওপর নির্ভর করে অসংখ্য মানুষের জীবিকা।

সুন্দরবন না থাকলে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে সবকিছু মিলিয়ে এটি মনুষ্য ও প্রকৃতির যৌথ এমন একটি শক্তি যেটার ক্ষতি করার অর্থ হচ্ছে পুরো বাংলাদেশের প্রাণ-বৈচিত্র, ইকোলজিক্যাল ব্যালেন্স, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষের নিরাপত্তা- সবই বিপদগ্রস্ত হবে।

এক কথায় বলা যায় সুন্দরবন ধ্বংস হওয়া মানে পুরো বাংলাদেশ অরক্ষিত হয়ে পড়বে। এমন একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র হওয়া মানে বাংলাদেশের মহাক্ষতি। আমরা হিসাব-নিকাষ করে দেখেছি লোকেশান হিসেবে এখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে ভারতের জন্য অনেক লাভজনক হবে। একই সাথে ভারতীয় কোম্পানিকে অনেক ধরনের সুযোগ সুবিধাও দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। তাদের কর মওকুফ করা হচ্ছে। ভারতীয় কোম্পানি 'এনটিপিসি’ শতকরা মাত্র ১৫ ভাগ ইনভেস্ট করে শতকরা ৫০ ভাগের কর্তৃত্ব পাবে। তাছাড়া তাদের কাছ থেকে ঋণ নিতে হবে। শুধু তাই না যে বিদ্যুৎ তৈরি হবে তার দাম এখনও অনির্ধারিত। সবকিছু মিলিয়ে ভারতের লাভের অঙ্ক অনেক বেশি।

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা যখন থেকে চিন্তা করা হচ্ছে ঠিক তখন থেকেই ওই এলাকার আশেপাশে বেশকিছু অপততপরতা আমরা লক্ষ্য করছি। বাংলাদেশের বেশ কিছু ব্যবসায়ী মহল ওই এলাকায় জমি দখল এবং জমি নিজেদের কর্তৃত্বে আনা শুরু করেছে। তারমানে সুন্দরবন এলাকা জুড়ে এমন এক ধরনের ততপরতা শুরু হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে সুন্দরবনের অস্তিত্ব থাকবে না। আর  সেকারণে বাংলাদেশের জনগণের বর্তমান ও ভবিষ্যত স্বার্থের জন্য এ প্রকল্প প্রতিরোধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ আমাদের সামনে খোলা নেই। আর সেজন্য আমরা সরকারকে লিখিতভাবে এ বিষয়ের সুবিধা ও অসুবিধার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি। আমরা এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সংবাদ সম্মেলন, আলোচনা সভা এবং সরকারের সাথে বৈঠক পর্যন্ত করেছি। কিন্তু সবকিছুতে ব্যর্থ হয়ে আমরা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর ভরসা করে লংমার্চ করেছি এবং আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রশ্ন: গণমাধ্যমে দেখলাম, আপনারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলে সরকারের ভিত্তি থাকবে না। কিন্তু গতকাল তো প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ভিত্তিস্থাপন করলেন। কিন্তু আপনারা এতদিন পরিবেশ রক্ষার যে আন্দোলন করেছেন তাতে জনগণ কতটা সাড়া দিয়েছে? জনগণ যদি সাথে না থাকে তাহলে কিসের ভিত্তিতে সরকারের ভিত্তি না থাকার হুমকি দিচ্ছেন আপনারা?

উত্তর: আমাদের সঙ্গে জনগণ রয়েছে। লংমার্চে আমরা যতটা আশা করেছিলাম জনগণ তার চেয়ে অনেক বেশি আমাদের আহবানে সাড়া দিয়েছে। আমরা লংমার্চের সময় উপলব্ধি করেছি সুন্দরবন এবং এর প্রাণ-বৈচিত্রসহ সামগ্রিক ব্যাপারে মানুষের মনের মধ্যে একটা গুরুত্ববোধ আছে। অর্থাৎ সুন্দরবনের গুরুত্ব অনুভব করার মতো শক্তি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এখনও আছে। আর সে কারণে দেশের মধ্যে এবং দেশের বাইরে থেকে আমাদের আন্দোলনে স্বতঃস্ফুর্ত সাড়া পেয়েছি।

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লংমার্চের আগে আমরা যখন ঢাকায় প্রচার চালাই তখনও লক্ষ লক্ষ মানুষের সমর্থন এবং সংহতি পেয়েছি। আর লংমার্চের যাত্রাপথে যতই আমরা অগ্রসর হয়েছি ততই এ ব্যাপারে জনসমর্থন বেড়েছে। শুধু তাই নয় যখন লংমার্চের শেষ মুহূর্তে আমরা যখন সুন্দরবন এলাকায় পৌঁছলাম তখন দেখলাম সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে বিরোধিতা করার মতো আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না ওই এলাকায়। ফলে আমাদের সঙ্গে জনগণ রয়েছে এবং তারাই এটি প্রতিহত করবে।

প্রশ্ন: জ্বি অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবেই। আর বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে দেয়া হবে না। আপনারাও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সরকার তার অবস্থান থেকে সরে না এলে আপনারা কঠোর কর্মসূচি দেবেন। তো ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিস্থাপন করেছেন। তো লংমার্চে আপনারা যে জনসমর্থন পেয়েছেন তাতে কি সরকারের কঠোর অবস্থানকে প্রতিহত করতে পারবেন?

উত্তর: দেখুন জনগণের যে সমর্থন আমরা পেয়েছি তাতে আমরা নিশ্চিত যে সরকার গায়ের জোরে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে পারবে না। কারণ জনগণের মধ্যে এ ব্যাপারে যে প্রতিরোধ তৈরি হয়েছে সেটিকে জাতীয় প্রতিরোধ বলা চলে। আর এই জাতীয় প্রতিরোধের ভাষা যদি সরকার বুঝতে না পারে তাহলে তা সরকারের জন্য মহাক্ষতিকর হবে। আর আমরা নিশ্চিত যে সরকার শেষ পর্যন্ত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে পারবে না।

প্রশ্ন: জ্বি আপনারা আপনাদের বক্তব্য তুলে ধরলেন কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে- সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে বাম দল এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো  যে লংমার্চ করছে- তা আবেগবাদী ঘটনা, যুক্তিহীন এবং রাজনৈতিক। সরকার দেশের স্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষা করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবি করছে। তো আপনাদের বিরুদ্ধে সরকারের  অভিযোগ এবং সরকারের দাবি এ দুটি বিষয় সম্পর্কে আপনি কি বলবেন?

উত্তর: দেখুন, সরকারের পক্ষ থেকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে অনেক রকম প্রলাপ বকা হচ্ছে। আমরা সরকারের এসব প্রলাপে গুরুত্ব দিচ্ছি না। কারণ আমাদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য, যুক্তি এবং তথ্য আছে। আর আমাদের সংগৃহীত তথ্য- উপাত্ত বৈজ্ঞানিকদের গবেষণালব্ধ। আমরা আমাদের তথ্য-উপাত্ত ও বক্তব্য সরকারের কাছে পাঠিয়েছি। সরকার আমাদের বক্তব্যের বিরুদ্ধে কোনো যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। সরকার যদি আমাদের বক্তব্য খণ্ডন করে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বারা কোনো ক্ষতি হবে না সেটা প্রমাণ করতে পারত তাহলে তো কোনো অসুবিধা ছিল না। সরকার এ ব্যাপারে তার স্বচ্ছতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার যতই এ ব্যাপারে কথা-বার্তা বলছে ততই তাদের ব্যাখ্যা দানের অক্ষমতা, অস্বচ্ছতা এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক তৎপরতা বেরিয়ে পড়ছে। সরকার এগুলো যত করবে জনগণের প্রতিরোধ ততই শাণিত হবে।

প্রশ্ন: অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, আপনাদের বক্তব্য অনুযায়ী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতিকর বিষয়গুলো নিয়ে আপনারা সরকারের কাছে সুস্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তারপরও কেন সরকার এটি বাস্তবায়নের জন্য জোরাল অবস্থানে যাচ্ছে, আসলে এর কারণ কি?

আনু মুহাম্মদ: আমাদেরও কিন্তু এই একই প্রশ্ন। আমরা এমনও দেখেছি যে সরকারি দলেরও এমন অনেকে আছেন যারা সরকারের এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন না। আমার মনে হয় যে ভারতীয় কোম্পানির যে মুনাফা, সেই মুনফাকে কেন্দ্র করে পুরো সুন্দরবন অঞ্চলে ভূমি দস্যুদের তৎপরতায় সরকারকে প্রভাবিত করছে। সরকার জনগণের স্বার্থের চেয়ে ভূমি দস্যুদের তৎপরতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের ভেতরের একটা অংশের সীমাহীন লোভ এবং মুনাফার আশায় এক ধরনের উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। তারা যেকোনো মূল্যে এটা করতে চায়। কিন্তু সেই সম্ভাবনা আছে বলে আমরা মনে করি না।

আমরা মনে করি-জনগণের কাছে সুন্দরবনের ক্ষতিকর বিষয়ের খবরটা আছে এবং জনগণ যখন সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে এটা তাদের নিজেদের জন্য এবং দেশের জন্য ক্ষতি হবে তখন তারাই সরকারকে প্রতিহত করবে। তাছাড়া এটা নিয়ে যখন জাতীয় জাগরণ তৈরি হয়েছে তখন কোনো ষড়যন্ত্র করে, ভয়ভীতি দেখিয়ে বা নির্যাতন করে এই বিদ্যুৎ প্রকল্প করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না।

মন্তব্য

মতামত দিন

অন্যান্য সাক্ষাৎকার

adv


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান, গোলাম রসুল প্লাজা (তৃতীয় তলা), ৪০৪ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: +৮৮০-২-৮৩১২৮৫৭, +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৮৩১১৫৮৬, নিউজ রুম মোবাইল: +৮৮০-১৬৭৪৭৫৭৮০২; ই-মেইল: rtnnimage@gmail.com